বহুল প্রতীক্ষিত করোনাভাইরাসের টিকা প্রদান কার্যক্রম (৭ফেব্রুয়ারি’২১খ্রিঃ) রোববার শুরু হয়েছে। এটি গোটা মানবজাতির জন্যে একটি বড় সুখবর। এ টিকা সময়মতো দেশে আসবে কি না, এক সময় এ নিয়েও অনেক সংশয় ছিল। সারা দেশে একযোগে ১ হাজার ৫টি কেন্দ্রে এ প্রতিষেধক দেওয়া শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের ২হাজার ৪’শ টি দল এ কাজে নিয়োজিত থাকার কথা রয়েছে। প্রথম দিনে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বিভিন্ন কেন্দ্রে টিকা নিয়েছেন। জানা গেছে, রাজধানীতে ৫০টি হাসপাতালে ২’শ ৪ টিম এবং ঢাকার বাইরে সারা দেশে ৯’শ ৫৫টি হাসপাতালে ২ হাজার ১’শ ৯৬টি টিম টিকা প্রয়োগে যুক্ত থাকবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত চলবে কার্যক্রম। অনলাইনে নিবন্ধন করার পর পরবর্তী কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হবে-এটাই সবার প্রত্যাশা। নিবন্ধনের পর প্রত্যাশিত সময়ে এসএমএস না পেয়ে কেউ কেউ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়তে পারেন। তবে টিকা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। যেহেতু এটি একটি ধারাবাহিক কার্যক্রম, দু-একদিন পর এসএমএস পেলেও আশা করা যায়-টিকা পেতে কোনো সমস্যা হবে না।

 

এ টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে সারা বিশ্বেই নানা রকম জল্পনাকল্পনা চলছে। যেহেতু টিকা আনার পর যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরই এটি সারা দেশে প্রদান শুরু হয়েছে, এ ক্ষেত্রে গুজবে কান না দিয়ে প্রকৃত তথ্য জানার চেষ্টা করতে হবে। ১৮ বছরের নিচে, গর্ভবতী নারী, শিশুকে দুগ্ধদানকারী মা, যাদের অনেক জ্বর আছে তাদের টিকা প্রদান কার্যক্রমের বাইরে রাখার নির্দেশনা রয়েছে। যাদের কোভিড আছে, তাদেরও আপাতত টিকা প্রদান কার্যক্রমের বাইরে রাখার নির্দেশনা রয়েছে; এদের উচিত হবে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে টিকা গ্রহণ করা। যারা গুরুতর অসুস্থ, হাসপাতালে অন্য কোনো রোগের চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদেরও উচিত হবে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে টিকা গ্রহণ করা। কোনো ব্যক্তিকে টিকা প্রদান কার্যক্রমে যুক্ত করার আগে টিকাদান কর্মীদের বিশেষ সতর্কতার পরিচয় দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিস্তারিত তথ্য জেনে তারপর তাকে টিকা প্রদান করতে হবে।

 

জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে ৩৫ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার টার্গেট রয়েছে। অনলাইনে সহজেই নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাচ্ছে। ‘সুরক্ষা’র প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, সেলফ রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে অনলাইনে নিবন্ধন ও টিকার কার্ড ডাউনলোডের ব্যবস্থা রয়েছে। এসএমএস-এর মাধ্যমে নিবন্ধনকৃত ব্যক্তিকে টিকাদানের তারিখ ও তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও জন্মতারিখ ব্যবহার করে নিবন্ধন সম্পন্ন করা যাচ্ছে। যারা কম্পিউটার বা মোবাইল ফোন ব্যবহারে অতটা দক্ষ নন, এমন নাগরিকদের কাছে নিবন্ধন সম্পন্ন করার বিষয়টি জটিল মনে হতে পারে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। টিকাদান কেন্দ্রে গিয়েও নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করা যায়। এ জন্য প্রয়োজন হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র। নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন হলে টিকা প্রদানের তারিখ ও সময় জানিয়ে দেওয়া হবে। যেহেতু কর্তৃপক্ষ ব্যতিক্রমী একটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে যাচ্ছে, সেহেতু এ কাজে ব্যাপক প্রস্তুতির পরও সংশ্লিষ্টদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এ-বিষয়ক কার্যক্রমে যাতে কোনো ধরনের অনিয়মের ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।