কচুয়া প্রতিনিধি ॥ “আমি গরীব মানুষ। আমি আর টাকা-টুকা দিতে পারুম না। ভাতার টাকা লাগবো না, আপনেরা কইয়া দেন আমার কাগজপত্র আর ছবি ফেরত দিতে।” – কচুয়া পৌরসভার পলাশপুর গ্রামের বিধবা অঞ্জলী রাণী দাস অনেকটা ক্ষোভের সাথেই একথাগুলো বলেন।

 

তিনি জানান, প্রায় ছয়মাস পূর্বে তিনি এবং তার মা আনু রানী দাসকে বিধবা ভাতার কার্ড করে দিবে বলে একই গ্রামের পপি রানী সরকার প্রথমে ২শ’ টাকা করে নেয়। কিছুদিন পর আবারও জনপ্রতি ১ হাজার টাকা নেন। এখন আবার বলছেন জনপ্রতি ২ হাজার ৫শ’ টাকা করে দিলে ভাতার কার্ড হবে, না হয় নাম কেটে দেবে।

পপি রানী সরকারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কর্ম কইরা দুইডা পয়সা রোজগার করলে কারও কোনো অসুবিধা আছে? আমি যে এ কাজে এতদিন ঘুরছি আমার একটা খরচ আছে না? আমি তাদের ১ হাজার টাকা করে ফেরত দিয়ে দেব।

 

পপি রানীর মতো এরকম দালাল প্রত্যেক ইউনিয়নে এক বা একাধিক রয়েছে। উপজেলা সমাজসেবা অফিসে এদের নিত্য আসা-যাওয়া। পৌরসভার কুলসুম, ৩নং ইউনিয়নের লিপি, ৬নং ইউনিয়নের বেলায়েত, ১২নং ইউনিয়নের মারিয়া সহ অনেকেই বিগত কয়েকদিন রাত ১০টা পর্যন্ত সমাজসেবা অফিসে লেনদেনের কাজে ব্যাস্ত ছিলেন। সমাজসেবা অফিসার আক্তার হোসেন নিজে এবং কম্পিউটার অপারেটর এমদাদ হোসেন দালালদের নিয়ন্ত্রণ ও উৎকোচ গ্রহণ করেন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ আসতে থাকলে সাংবাদিকরা সমাজসেবা অফিসে যান। সে সময় জেলার একজন উর্ধতন কর্মকর্তার নিকট অভিযোগগুলো উপস্থাপন করেন সাংবাদিকরা। সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো পাওয়া সত্ত্বেও জেলা কর্মকর্তা ও উপজেলা কর্মকর্তার কাছ থেকে সদত্তোর পাওয়া যায়নি।

 

সরেজমিনে গেলে উপজেলার বিতারা ইউনিয়নের বিতারা গ্রামের সরকারি বাড়ির শরিফুল ইসলাম জানান, তার পিতা হাবিবুর রহমান ও জোহরা বেগমকে ভাতার কার্ড পাইয়ে দেওয়ার নামে ৬ হাজার টাকা ও একই বাড়ির আঃ হালিম সরকার, সিরাজুল ইসলাম সরকার, ডা. আলী আজগর সরকার, আঃ খালেক সরকার, আবুল হাসেম সরকার, সহিদ সরকার, তাজির সরকার এর কাছ থেকে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সালাউদ্দিন সরকারের চাচা মিজান সরকার নগদ অর্থ হাতিয়ে নেয়। এছাড়া করইশ গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামে ছেলে সাগর হোসেনকে ভাতার কার্ড পাইয়ের দেওয়ার নাম নগদ আড়াই হাজার টাকা হাতিয়ে নেন উপজেলা সমাজ সেবা অফিসের অফিস সহকারি এমদাদ।

 

উত্তর কচুয়া ইউনিয়নের নাহারা কড়ইয়া গ্রামের সরকার বাড়ির মনিন্দ্র চন্দ্র সরকার জানান, প্রায় বছরখানিক পূর্বে ভাতার কার্ড করি। অথচ আমার পরে একই বাড়ির প্রেম রানী, পদ্ম রানী, বল্লব ও তুলসী রানী ভাতার কার্ড করে ভাতা পাচ্ছে।

 

উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার চেয়ারম্যান ও মেয়রদ্বয় বয়স্ক, বিধবা ও পঙ্গু ভাতার তালিকা করে উপজেলা সমাজসেবা অফিসে প্রদান করার কথা থাকলেও সমাজ সেবা কর্মকর্তা তার স্বেচ্ছাচারিতায় প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা হতে প্রায় ২ শতাধিক সুবিধাভোগীর নাম তার নিজ আয়তায় রেখে এ ভাতার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র দপ্তর হতে যে সকল তালিকা অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে সেখান থেকেও অনেকের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।