ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি ।। ফরিদগঞ্জে সরকারি সম্পতি নিজের দাবী করে ওইস্থান থেকে গাছ কর্তনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের নিকট দরখাস্ত জমা দানের পর পরই উপজেলা বন কর্মকর্তার সঙ্গে আতাত করে বহুদিনের পুরনো তিনটি গাছ কেটে নিয়ে গেছে স্থানীয় আবুল বাসার।

 

১৯ জুন’২১ খ্রিঃ (শনিবার) দুপুরে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার ১০ নং গোবিন্দপুর (দক্ষিণ) ইউনিয়নের আইলের রাস্তা-রামপুর সড়কের নলডুগী মিজি বাড়ি সংলগ্ন রাস্তার পূর্ব পাশ থেকে বিনা অনুমতিতে সরকারী ৩টি রেইনট্রী ও ১টি মেহগনী গাছ কেটে গেছে স্থানীয় আবুল।

 

তথ্য সূত্রে জানা যায়, গত ৯ মার্চ’২১খ্রিঃ সরকারি সম্পতি আবুল বাসার ব্যক্তি মালিকানা দাবী করে ঐ সম্পতিতে তিনটি গাছ কর্তণের আবেদন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর। আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা বন কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিলে, বন কর্মকর্তা গোপনে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দায়সারা একটি স্টিমেট তৈরি করে ১২ হাজার ২ শত ৬৭টি টাকা ব্যাংকে চালান ফরমের মাধ্যমে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি না নিয়ে গাছ কাটার অনুমতি প্রদান করেন।

 

এ বিষয়ে আবুল বাসার জানান, আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করি এবং উপজেলা বন কর্মতার কাছে থেকে অনুমতি নিয়ে এই গাছ কাটছি এতে আমাদের অপরাদ কি? ।

 

গাছ কর্তণকালীন সময়ে গ্রাম পুলিশ ছলেমান জানান, গাছ টেন্ডার নিয়েছে হোসেন মিয়া আর বিক্রি করেছে আবুল বাসারের নিকট। আপনি কি করছেন, জবাবে জানান দায়িত্ব পালন করছি। অথার্ৎ গ্রাম পুলিশ পাহারায় সরকারী গাছ অনুমতি বিহিন কর্তণ চলছে।

 

এ বিষয়ে উপজেলা বন কর্মকর্তা মো: কাউছার মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনারা চুপচাপ তেলের পঁয়সা নিয়ে এই যায়গা থেকে চলে আসুন।

 

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আ: হান্নান জানান, আমি এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে গাছ কর্তন বন্ধ করার চেষ্টা করবো।

 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলী হরি জানান, বন কর্মকর্তাকে মুঠো ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে আমি সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকে এ বিষয়ে খোঁজ নিতে বলছি। অনিয়ম হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

উল্লেখ্য: একই ভাবে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে এই বন কর্মকর্তা মো: কাউছার আহম্মেদের যোগসাজশে সরকারী গাছ কাটা ও অর্থ আত্মসাতের সুনিদিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।