ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি ।। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে গায়ে হলুদে বাজি ফুটানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ জন গুরুত্বর আহত হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ হতে ফরিদগঞ্জ থানায় পাল্টা পাল্টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ৯নং গোবিন্দপুর ইউনিয়নের চির্কা চাঁদপুর গ্রামে।

 

স্থানীয় লোকজন ও অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২৫ জুলাই’২১ খ্রিঃ) রাতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে বাজি ফুটিয়ে আনন্দ করছিল উপজেলার চির্কা চাঁদপুর গ্রামের বেপারী বাড়ির লোকজন। পাশের খান বাড়ির লোক শুক্কুর, আনোয়ার, মনির খান ও শরীফ ঢালীসহ তাদেরকে বাজি ফুটানোর বিষয়ে নিষেধ করেন। এই সময় খাঁন বাড়ির বেবী নামে একজন ককটেল ফুটিয়েছে বলে ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশ খবর দেয় । পুলিশ ঘটনাস্থল পরির্দশন করে যাওয়ার কিছুসময় পরে রাত ১১.৩০ মিনিটে শুক্কুর ও আনোয়ারসহ দলবল নিয়ে এসে বিয়ে বাড়িতে হামলা করেছেন বলে অভিযোগ করেন বিয়ে বাড়ির লোকজন। হামলায় গুরত্বর আহত হন বিয়ে বাড়ির কাউসার (২১), ইসমাইল হোসেন(২২), অপু মজুমদার(২১) ও বৃদ্ধা অনোয়ারা বেগম (৫৫) তাদেরকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। এই ঘটনায় উভয় পক্ষ হতে ২৬ জুলাই সোমবার ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

 

আহত পরিবারের লোকজন বলেন, আমাদের বাড়িতে একটি মেয়ের বিয়ের জন্য রাতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান চলাকালিন সময় শুক্কুর ও আনোয়ারসহ কয়েজন বাঁধা দেয়। তার কিছু সময় পর পুলিশ আসে আমাদের বাড়িতে নাকি ককটেল ফুটানো হয়েছে। ছেলেরা বাজি ফুটিয়ে আনন্দ করছিল। পুলিশ ঘটনান্থল পরির্দশন করে চলে যাওয়ার পরে রাতে শুক্কুর ও আনোয়ারসহ লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসে সন্ত্রাসী কায়দায় আমাদের ওপর হামলা করেছে। আমরা কিছু বুজে উঠার আগেই আমাদের ছেলেদের মেরে তারা চলে যায়। আমরা তার বিচার চাই।

 

এ বিষয়ে শুক্কুর ও আনোয়ার কাউকে বাড়িতে না পাওয়া গেলেও ৯৯৯ এ পুলিশকে ফোন করে আনা বেবীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের বাড়িতে বিয়ে তারা আমার ঘরের সামনে এসে ককটেল ফুটায় এবং আমার বিল্ডিংয়ে মারে আমি ভয় পেয়ে যাই। অল্পের জন্য আমার গায়ে লাগেনা। তাদের ককটেল না ফুটানোর জন্য বাঁধা দিলে তারা আরো বেশি করে ককটেল মারে তাই আমি ৯৯৯ ফোন করেছিলাম। অপর প্রশ্নের জবাবে বেবী বলেন, হামলার বিষয়ে আমি কিছু যানিনা। কে বা কারা তাদের ওপর হামলা করেছে।

 

ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনর্চাজ শহিদ হোসেন বলেন, আমরা দুই পক্ষের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।